স্থগিত এইসএসসি পরীক্ষা কবে নাগাদ অনুস্থিত হবে এ নিয়ে মঙ্গলবার থেকে নিউজ করা শুরু হয়। আজ বুধবার অধিকাংশ মিডিয়া এই পরীক্ষা আগামি মাসে (সেপ্টেম্বরে) পরীক্ষা হতে পারে জানিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে। প্রায় দেড় লক্ষ পরীক্ষার্থী, তাদের অভিভাবক ছাড়াও অসংখ্য সাধারন পাঠকের কাছে এই খবরটি গুরুত্বপূর্ণ হওয়াই তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও ইউটিউবে অধিক মাত্রায় ভাইরাল হয়েছে। অথচ নিউজটি বিবভ্রান্তিকর।
আগামি মাসে এই পরীক্ষা হবে সুনির্দিষ্টভাবে কোন মিডিয়া উল্লেখ করেনি। শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত অনুমান নির্ভর কোনো সংবাদ বা গুজব আমলে না নেয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে, বিশেষজ্ঞবৃন্দের সাথে আলোচনা করে, সকল বিষয় বিশ্লেষণ পূর্বক, পরীক্ষা অনুষ্ঠানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে মন্ত্রনালয়ের ফেসবুক পেজে জানান হয়।
এই বিবভ্রান্তি ছড়ানোর সূত্রপাত করে জাগোনিউজ২৪ ডটকম মঙ্গলবার বিকাল ৩ টায় “স্বাস্থ্যবিধি মেনে সেপ্টেম্বরে এইচএসসি পরীক্ষা!” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করার মধ্য দিয়ে। ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যে সময়নিউজে “এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি আসছে” এবং কালের কণ্ঠে “আসছে এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি” শিরোনাম করার ফলে তা দ্রুত Facebook আর YouTube এ ছড়িয়ে পড়ে।
Factখুজির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যে সকল সংবাদ মাধ্যম HSC পরীক্ষা নিয়ে নিউজ করেছে তারা একই ধরনের তথ্য ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে ব্যবহার করে। তাদের শিরোনামগুলোও প্রায় একই রকমের। এসব নিউজের মধ্যে আছে বিবভ্রান্তিকর তথ্য। যেমন জাগনিউজ উল্লেখ করে, “করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার ১৫ দিন পর শুরু হতে পারে পরীক্ষা।“ আবার অনেকে উল্লেখ করে যে সেপ্টেম্বর মাসের শেষে অথবা অক্টোবর মাসের শুরুতে পরীক্ষা হতে পারে।
সাংবাদিকতায় দায়িত্বহীনতা ও নিতিহীন্তা কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে তার একটি বড় উদাহরণ হল এই ছবিটি। সময় নিউজ ছবিটি পিইসি-জেএসসি পরীক্ষা বাতিলের সম্পর্কিত ফেইক নিউজেও ব্যবহার করে।
এমন অনুমান নির্ভর ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করার প্রবনতা প্রায় সকল ধরনের সংবাদ মাধ্যমে ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে। এর উদ্দেশ দরশক-পাঠকদের আকৃষ্ট করা হলেই এই ধরনের নিউজ বিভ্রান্তি ও গুজব ছড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি করে। অনেক ফেসবুক পেজ, গ্রুপ আর আইডি থেকে এমন বিভ্রান্তিকর খবর ছড়িয়ে দেয়া হয়। একই ভাবে তা YouTube এও ছড়ানো হয়।