এ বছরের পিইসি-জেএসসি পরীক্ষা কি বাতিল?

দৈনিক যুগান্তর “পিইসি-জেএসসি পরীক্ষা বাতিল” এই শিরোনামে একটি খবর প্রকাশ করলে মঙ্গলবার সকাল থেকে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। এই নিউজে বলা হয়, চলতি বছর প্রথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) ও জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষা হচ্ছে না।

যুগান্তরের সংবাদকে সুত্র ধরে সময়নিউজ অনলাইনে এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করলে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে। তবে পিইসি বা জেএসসি কোন পরীক্ষাই বাতিল হয়নি। এব্যপারে সরকার এখনো সিদ্ধান্ত গ্রহন করেনি।

দেখা যাক মুল ধারার অন্যান্য গণমাধ্যম এ নিয়ে কি লিখেছেঃ

“জেএসসি পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়নি: শিক্ষা সচিব” এমন শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করেছে দৈনিক শিক্ষাডটকম। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন এই নিউজ পোর্টালকে বলেন, জেএসসি পরীক্ষা বাতিলের কোন সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এখনো রয়েছে। তবে, পরীক্ষা হবে কি না সে বিষয়ে এখনো কোন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।

দ্য ডেইলি স্টারের শিরোনাম, “পিইসি, জেএসসি ও সমমান পরীক্ষা বাতিলের প্রস্তাব।“ রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, করোনাভাইরাস মহামারির কারণে এ বছর প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) ও সমমান এবং জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও সমমান পরীক্ষা বাতিলের প্রস্তাবনা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠাতে যাচ্ছে দুই শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

“পঞ্চম–অষ্টম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষা এবার নাও হতে পারে” শিরোনাম করেছে প্রথম আলো। রিপোর্টে বলা হয়, করোনাভাইরাসের কারণে চলতি বছরের পঞ্চম শ্রেণির প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী এবং অষ্টম শ্রেণির জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা বাতিলের চিন্তাভাবনা করছে সরকারের নীতিনির্ধারক মহল। এ নিয়ে আলোচনাও শুরু হয়েছে। বিকল্প হিসেবে এবার কেবল স্কুলপর্যায়ে এই পরীক্ষা হতে পারে।

এসব রিপোর্ট এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে খোজ নিয়ে জানা যায় যে, মন্ত্রনালয় এবং সরকার করোনা মহামারীর কারনে এসব পরীক্ষা স্থগিত করা হবে কিনা তা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করছে। শিক্ষা মন্ত্রনালয় এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব পাঠাবে। সুতরাং পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। কিন্তু যুগান্তর পত্রিকা সরাসরি পিইসি-জেএসসি পরীক্ষা বাতিল হয়েছে সংবাদ করার কারনে তা জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ায়।

পত্রিকাটি নিউজে বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিলেও নির্দিষ্ট কারো নাম উল্লেখ করা হয়নি। এই নিউজটি যুগান্তরের প্রিন্ট ও অনলাইনে সোমবার রাতে প্রকাশ পায়। তবে পত্রিকার ফেসবুক পেজে আপ করা হয় মঙ্গলবার দুপুরে।

পরীক্ষা নিয়ে বিভ্রান্তিকর নিউজটি প্রথমে যুগান্তর করলেও Factখুঁজি যাচাই করে দেখেছে সময়নিউজ অনলাইনের খবরটি বেশী ছড়িয়েছে। নানা ধরনের নিউজ পোর্টাল ছাড়াও অনেকে পোস্ট দিয়ে ফেসবুকে দুটি সংবাদ মাধ্যমের তথ্য শেয়ার করেছে।

Factখুঁজি এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গণসংযোগ কর্মকর্তা এম এ খায়ের এর সঙ্গে যোগাযোগ করলে পরীক্ষা বাতিলের কোনো সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয় নেয়নি বলে জানান।

Comments

While most comments will be posted if they are on-topic and not abusive, moderation decisions are subjective. Published comments are readers’ own views and The Business Standard does not endorse any of the readers’ comments.